মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণ রোববার পরিণত হয়েছিল এক উৎসবমুখর উদ্ভাবনী আঙিনায়। খুদে বিজ্ঞানীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো ক্যাম্পাস। শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা, যেখানে বালক ও বালিকা শাখায় আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় এই সৃজনশীল উৎসবের।
মেলায় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হয়ে তুলে ধরেছে বিজ্ঞানের নানা দিক। পরিবেশ, প্রযুক্তি, দুর্যোগ পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তৈরি প্রজেক্টগুলো দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে।
মেলার উদ্বোধন করেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ম. তামিম। উদ্বোধনের পর তিনি প্রতিটি স্টলে ঘুরে ঘুরে খুদে বিজ্ঞানীদের প্রকল্প দেখেন এবং তাদের উৎসাহ দেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মিলনায়তনে ছিল একটানা নানা আয়োজন ও উপস্থাপনা।
আজ সোমবার চূড়ান্ত বিচার শেষে ঘোষণা করা হবে বিজয়ীদের নাম।
মেলায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় কয়েকটি প্রজেক্টের মধ্যে ছিল আহমেদ খান আয়ান ও তার সঙ্গীদের তৈরি ‘আগ্নেয়গিরি’ মডেল। এতে আগ্নেয়গিরির গঠন, বিস্ফোরণ ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন ছিল।
অন্যদিকে সৌম্যর ‘ভূমিকম্প-সংকেত যন্ত্র’ ভূমিকম্পের এক ঘণ্টা আগেই পূর্বাভাস দিতে সক্ষম, যা বেশ প্রশংসিত হয়।
এ ছাড়া বর্জ্য পদার্থ থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় কৃষি রোবট, জল-স্থল-আকাশে চলতে সক্ষম খেলনা গাড়ি—এই ধরনের প্রকল্পগুলোও ব্যাপকভাবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।
মেলার দিন পুরো স্কুল ভবন ও প্রাঙ্গণকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল আগ্রহ আর উদ্দীপনার ছাপ। উপস্থিত দর্শকরা খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী শক্তির প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, বিশ শতকে প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। আলাদা ক্যাম্পাসে পরিচালিত হয় বালক ও বালিকা শাখা।
খুদে বিজ্ঞানীদের এই সৃজনশীল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব নিতে তারা প্রস্তুত।
—জা.অর্থনীতি/আরএস






Add Comment